১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
রাজাকার শ্লোগানধারীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ গ্রেফতারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল: মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায় কার্যকর করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল উন্মুক্ত হলো ঢাকা-সুইজারল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইটের দ্বার ৫ কারণে কোপা যাবে আর্জেন্টিনায় দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরব আমিরাতের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূস আসামি, উনি এভাবে কথা বলতে পারেন না’ গাজায় মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবনার জবাবে যা জানাল ফিলিস্তিনিরা দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে আনন্দ মিছিল
  • প্রচ্ছদ
  • মতামত >> লাইফস্টাইল >> সারাদেশ
  • শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ, পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে
  • শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ, পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে

    মুক্তি কন্ঠ

    শেখ কামালের জন্ম দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারের সব দফতরে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। দিনটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে।

    দিনটি পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রদর্শিত পথ, আদর্শ, দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য অনুকরণীয় মডেল। অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ হয়ে তিনি আমাদের মাঝে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শেখ কামাল একাধারে যেমন দেশের সেরা ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়াবিদ ছিলেন, তেমনি ছাত্র হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মনেপ্রাণে দেশীয় সংস্কৃতি লালন এবং চর্চা করতেন। খেলাধুলা, সংগীত, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সব অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন তিনি।

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার

    বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করবেন। সকাল ১০টায় তিনি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই অনুষ্ঠানে শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার ২০২২ দেওয়া হবে।

    আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো সকাল ৮টায় ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পরে অনুষ্ঠিত হবে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

    শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আলোচনা সভা করবে। এছাড়াও শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বিকাল ৩টায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শ্রমিক লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

    বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এই সংগঠনের সংগ্রামী, আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাসভবনে আক্রমণ করার ঠিক আগে আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যান।

    তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন।

    শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) পাস করেন।

    তিনি ছায়ানটের সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণে থিয়েটার আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম সারির সংগঠক ছিলেন। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী’। শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনয়শিল্পী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

    শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল তার। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলতেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করতেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার মাত্র একমাস আগে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই খ্যাতিপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ওই সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শহীদ শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।