১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • মৌসুম জুড়ে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, বর্ষা আসছে দেরিতে
  • মৌসুম জুড়ে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, বর্ষা আসছে দেরিতে

    মুক্তি কন্ঠ

    চলতি বছর বিলম্বে আসছে বর্ষা। পহেলা জুনের আগে-পরে বর্ষারোহী মৌসুমি বায়ুমালা টেকনাফ দিয়ে দেশে প্রবেশের স্বাভাবিক নিয়ম থাকলেও এবার ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সাইক্লোন মোখা স্থলভাগ অতিক্রমের পর আবহাওয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ তছনছ হয়ে গেছে।

    আবহাওয়াগত পরিস্থিতি অনুকূল হতে সময় লাগছে। সেই সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ শক্তিশালী হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও আছে। মূলত ভারতের কেরালায় বর্ষা মৌসুমের অগ্রভাগ প্রথম পৌঁছার পর তা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের টেকনাফ-কক্সবাজার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর আইএমডি জানিয়েছে, কেরালায় বর্ষা আসছে ৪ জুনের পর। কিন্তু কেরালায় বর্ষা আসার নির্ধারিত সময় আজ ১ জুন। অর্থাৎ কেরালায় বর্ষা চার দিন পিছিয়ে রয়েছে। আর সেই কারণে বাংলাদেশে বর্ষা আসতে ১৩-১৪ জুন হয়ে যেতে পারে।

     

    এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এবার বর্ষা মৌসুমে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, বর্ষা বিলম্বে আসার কারণ একটি বড় সাইক্লোন পার হওয়ার পর আবহাওয়া এখানো স্বাভাবিক হয়নি। এটা স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে। বর্তমান বিরাজমান আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরে টেকনাফ দিয়ে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা মৌসুম প্রবেশ করবে বাংলাদেশে। এটা ক্রমে সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে ১৫-২০ দিন সময় লাগবে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আগামী কয়েক দিনে তেমন বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি স্পর্শ করতে পারে। জুনের মাঝামাঝি বা এরপর বর্ষার বৃষ্টি হতে পারে।

    চলমান তাপপ্রবাহ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, বর্তমান তাপপ্রবাহটি আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। সারা দেশে একেবারে তাপপ্রবাহ কমার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তবে এই সময় তাপমাত্রা গত এপ্রিলের মতো অস্বাভাবিক রূপ ধারণ করবে না; কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের মধ্যে ঘাম ও গরমের অস্বস্তিকর অনুভূতি থাকবে।

    কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী ৭ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। জুন মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ জেলাগুলোর ওপর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম। ৩-৯ জুন পর্যন্ত মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলগুলো।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

    ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা: এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আন্দামান সাগরের মিয়ানমার উপকূলে ফের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আলামত দেখা যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুসারে আগামী ৩ জুন মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কাছে তৈরি হবে একটি ঘূর্ণাবর্ত। ৮ জুন সেটি পৌঁছবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। ইউরোপীয় আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের লক্ষ্য হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশা উপকূল। এই ঘূর্ণিঝড়ে সওয়ার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বর্ষা ঢুকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তালিকা অনুসারে যে ঝড়টি আগে তৈরি হবে তার নাম হবে ‘বিপর্যয়’, অন্যটির নাম হবে গতি বা তেজ।