১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • মতামত >> লাইফস্টাইল >> স্বাস্থ্য
  • আয়োডিনের ঘাটতি বিপদ আনে
  • আয়োডিনের ঘাটতি বিপদ আনে

    মুক্তি কন্ঠ

    যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে, সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়। এ ছাড়া অটোইমিউন হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে গ্ল্যান্ড নষ্ট হয়ে যায় এবং থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করে না। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে। নবজাতক শিশুদের মধ্যে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়।

     

    সাধারণ লক্ষণ যেমন অবসাদগ্রস্ততা, ঘুম ঘুমভাব, ওজন বৃদ্ধি, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, গলার স্বরের কোমলতা কমে যাওয়া এবং অনেকটা ভারি বা কর্কশ শোনানো, গলগণ্ড নিয়ে প্রকাশ করতে পারে। যেমন—

     

    লক্ষণ

    ♦ হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যা

    ♦ স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা

     

    ♦ চর্ম বা ত্বকের সমস্যা

    ♦ প্রজননতন্ত্রে সমস্যা

    পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

     

    হাইপোথাইরয়েডিজম হলে শিশুদের বেলায় অবর্ধনজনিত রোগ বা ক্রিটিনিজম হবে এবং উঠতি বয়স্কদের বা প্রাপ্তবয়স্কদের মিক্সিডিমা হয়। ক্রিটিনিজমের লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাংসপেশি ও হাড় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বর্ধন না হওয়া। এর ফলে শিশু বেঁটে হয়, বোকা বা বুদ্ধিহীন হয়ে থাকে। জিহ্বা বড় হবে ও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নাভির হার্নিয়া হয়। হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়ার কারণ হচ্ছে অটোইমিউন ধ্বংসপ্রাপ্ত, ওষুধ, টিএসএইচ স্বল্পতা, গর্ভাবস্থায় মায়ের থাইরয়েড হরমোন স্বল্পতা ইত্যাদি।

    রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন। তবে বেশির ভাগ রোগীই ভোগে হাইপোথারিয়েডিজম অর্থাৎ তাদের থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে কম পরিমাণ থাইরয়েড হরমোন থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডাক্তাররা তাদের থাইরক্সিন ট্যাবলেট খাবার পরামর্শ দেন।

    ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

    সারা জীবন ওষুধ খেতে হবে কি না তা রোগের ধরনের ওপর নির্ভরশীল। যার থাইরক্সিন ঘাটতি সামান্য, উপসর্গও কম তার সারা জীবন ওষুধ খাবার প্রশ্নই ওঠে না। ছয় মাস থেকে দুই বছরেই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে। অনেকে ওষুধ ছাড়াও সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু যার একেবারেই থাইরক্সিন নিঃসরণ হয় না বা কোনো কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডটাকেই কেটে বাদ দিতে হয়েছে তাদের সারা জীবন ওষুধ না খেয়ে উপায় নেই।

    ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে অল্পদিনের মধ্যেই রোগটা ভয়ংকরভাবে ফিরে আসবে। জীবন সংশয় হতে পারে।

    ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সারা জীবন খেলেও কোনো অসুবিধা হয় না।

    রক্ত পরীক্ষা

    চিকিৎসা চলাকালে বছরে অন্তত একবার রক্তে থাইরক্সিন বা টি৪ এবং টিএসএইচ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

    পরামর্শ দিয়েছেন

    ডা. শাহজাদা সেলিম

    সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়