১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় >> মতামত >> রাজনীতি
  • পতাকা উত্তোলন দিবসের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন আসম আব্দুর রব- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ
  • পতাকা উত্তোলন দিবসের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন আসম আব্দুর রব- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

    মুক্তি কন্ঠ

    জেএসডির নেতা আসম আব্দুর রব ঐতিহাসিক ২রা মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবসের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা। ঐতিহাসিক ২রা মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আজ ২রা মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত পতাকা সমাবেশ কর্মসূচীতে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত পতাকা সমাবেশ কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশ গুপ্ত, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিম সন্টু, বিশিষ্ট ভাস্কর্য শিল্পী রাশা, সহ-সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ সুজনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

     

    পতাকা সমাবেশের বক্তব্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, “ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলনের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র চলছে। জেএসডির আসম আব্দুর রব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেদিন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পতাকা উত্তোলনের প্রথম কৃতিত্ব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের, ব্যক্তি আসম আব্দুর রবের নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম বেগবান করেছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উচিত ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবসকে সাংগঠনিকভাবে সমগ্র দেশে উদযাপন করা। নতুন প্রজন্মকে পতাকা উত্তোলন দিবসের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “একটি দেশ, একটি পতাকা ও একটি জাতি। যেন সব কটিই যেন পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে একটি জাতির প্রতীকী চরিত্রের জন্ম দেয় একটি পতাকা। পতাকা উত্তোলনই ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস।আজ সেই ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে (২ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেদিন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পতাকা উত্তোলন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে জেএসডির আসম আব্দুর রব ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা করছেন। পতাকা উত্তোলন দিবসের ইতিহাস জেএসডির আসম আব্দুর রব বিকৃতি করে বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগের অবদানকে অবমূল্যায়ন করার চেস্টা করছেন যা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কখনোই মেনে নিবে না। নতুন প্রজন্মকে পতাকা উত্তোলন দিবসের সঠিক ইতিহাস জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। জেএসডির আসম আব্দুর রবকে পতাকা উত্তোলনের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নিতে দিবে না এদেশের তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কৃতিত্ব ও অবদান সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

    সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলনের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন জেএসডির আসম আব্দুর রব। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলনের সকল কৃতিত্ব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের, জেএসডি বা ব্যক্তি আসম আব্দুর রবের নয়। ছাত্রলীগকে তাদের কৃতিত্ব ও অবদান সমগ্র দেশে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু ছাত্রলীগ এবিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ছাত্রলীগের নিকট প্রত্যাশা, আগামী বছর থেকে ঐতিহাসিক ২রা মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবসকে সাংগঠনিকভাবে উদযাপন করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।”