১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • মতামত >> রাজনীতি
  • ঢাবির অধ্যাপক ইমতিয়াজের অপসারণ চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন শেষে ভিসিকে স্মারকলিপি
  • ঢাবির অধ্যাপক ইমতিয়াজের অপসারণ চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন শেষে ভিসিকে স্মারকলিপি

    মুক্তি কন্ঠ

     

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপরাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষক ও জেনোসাইড সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ২ এপ্রিল রবিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল। ঢাবি উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, সহ-সভাপতি কানিজ ফাতেমা, অভিশ্রুতি রায়সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ’-এর পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এর লেখা ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ নামক বইয়ের ৪০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিজে হাজির হয়ে বঙ্গবন্ধুকে ‘জয় পাকিস্তান’ বলতে শুনেছেন। উক্ত বইয়ে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বোঝাতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি। তার উল্লেখিত পুস্তকে এমন কথাও লিখেছেন যার অর্থ দাঁড়ায় এই যে ১৯৭১-এ বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা ১৯৪৮ সালের ‘জেনোসাইড কনভেনশনের’ আওতায় পড়ে না। জেনোসাইড কনভেনশনের সংজ্ঞাভুক্ত হতে হলে একটি মানবগোষ্ঠী কর্তৃক অন্য এক মানবগোষ্ঠীকে আক্রমণ করতে হয়। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, “একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো, আসলেই কি ত্রিশ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, নাকি মৃতের সংখ্যা কম ছিল? তার এমন দুঃসাহসিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ লেখনীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অপরাধে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি। একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কোন পাকিস্তানি দালাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না।”

    আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, “স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে এসেও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র দেখতে হচ্ছে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমরা কোন আপোষ করবো না। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা মানে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবমাননা করার শামিল। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা নানাবিধ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এদের বিরুদ্ধে একাত্তরের ন্যায় তরুণ প্রজন্মকে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার অপরাধে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। এই প্রতিবাদ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর খুনী খন্দকার মোশতাকের পেত্মাত্মারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। সুযোগ পেলে এসব বিষধর সাপরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদেরকে ছোবল দিবে। ঢাবির আইন বিভাগ থেকে বিতাড়িত হওয়া শিক্ষক রহমতুল্লাহ কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার যোগদান করলো? এদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদেরকেও খুঁজে বের করে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ যে অপরাধ করেছেন সেটা অমার্জনীয়। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে চরমভাবে অবমাননা করেছেন। তার জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে পারে না। গণহত্যা গবেষণা কেন্দ্রে সে থাকতে পারে না। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

    আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দেয়নি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার চেষ্টা করলে আমরা কখনোই ঘরে বসে থাকবো না। স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও তাদের দোসরদেরকে ধরে ধরে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিবো। অধ্যাপক ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাজপথে নেমে এই পাকিস্তানের দালালকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তার স্থান বাংলাদেশে হবে না। তার বাপ দাদার দেশ পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে।”

    সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও জেনোসাইড সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহবান, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ না করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে অধ্যাপক ইমতিয়াজ চরমভাবে অবমাননা করে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এই বইয়ের প্রকাশক ইউপিএলকেও এর দায়ভার নিতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজের এমন দুঃসাহসিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ লেখনীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সরকারের নিকট দাবি, অবিলম্বে এই বই বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কর্তৃক মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড কখনোই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি মেনে নিবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অপরাধে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এক বিন্দু ছাড় দিবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহবান, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”