১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
রাজাকার শ্লোগানধারীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ গ্রেফতারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল: মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায় কার্যকর করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল উন্মুক্ত হলো ঢাকা-সুইজারল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইটের দ্বার ৫ কারণে কোপা যাবে আর্জেন্টিনায় দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরব আমিরাতের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূস আসামি, উনি এভাবে কথা বলতে পারেন না’ গাজায় মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবনার জবাবে যা জানাল ফিলিস্তিনিরা দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে আনন্দ মিছিল
  • প্রচ্ছদ
  • আইন আদালত >> মতামত >> রাজনীতি
  • কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়ার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
  • কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়ার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

    মুক্তি কন্ঠ

     

    আজ ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে “খুনী মোশতাক ও জিয়ার অবৈধ সরকারের কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স: পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন এক কালো আইন শীর্ষক” আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মফিজুল হক সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, ভাস্কর্য শিল্পী রাশাসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনা সভার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টামাইন্ড খুনী জিয়া-মোশতাক চক্রের অবৈধ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ কি এবং কখন জারি হয়েছিল সেটা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ক্ষমতায় বসে সামরিক আইন জারি করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যার পেছনে ছিলেন সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী কর্মকর্তা। এসব সেনা কর্মকর্তারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে হত্যাকারী খন্দকার মোশতাক আহমেদের হত্যার দায় থেকে মুক্তি বা অব্যাহতি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নইলে এদের বাঁচার কোন উপায় ছিল না। সেজন্য জারি করা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের এক নজিরবিহীন কালো আইন – ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ বা ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ বা ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমান। দুই অংশের অধ্যাদেশটির প্রথম অংশে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থি যাই কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি (অর্থাৎ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহেমেদ) উল্লিখিত ঘটনার (অর্থাৎ ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের ঘটনা) সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যায়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হল। ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশে’র সোজাসাপ্টা মানে দাড়াল এই যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, বা অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।
    ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়ার সংশ্লিষ্টতা
    নানা তথ্য-উপাত্তের মধ্য দিয়ে এটি আজ প্রামাণিক যে, এই অধ্যাদেশ জারির পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের সরাসরি জড়িত ছিল। সামরিক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল নিজেই রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়ে জিয়াউর রহমান ওই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল কুশীলব জিয়া-মোশতাক চক্রের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করার জন্য অবশ্যই কমিশন গঠন করতে হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আবার রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশবিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি কারচুপির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়। ওই বছরের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পাস হয়। ‘সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯’ শিরোনামের ওই সংশোধনীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দায়মুক্তি অধ্যাদেশসহ চার বছরের সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ, আদেশ, ও ফরমানকে বৈধতা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার বন্ধে জিয়া পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করেন। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে দায়মুক্তি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেওয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা পাকাপোক্তভাবে দায়মুক্তি পেয়ে যান। ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের জারি করা ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি’ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যে বাঁধা ছিল তা অপসারিত হয়। হত্যাকারীদের বিচার যেন হতে না পারে সেজন্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আনেন। সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯-এর ক্ষমতাবলে ভবিষ্যতে কেউ যাতে ১৫ অগাস্টের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারে, সে ব্যবস্থাটিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করা হলো। নিঃসন্দেহে এই অধ্যাদেশটি ছিল আইনের শাসন বিরোধী নজিরবিহীন এক কালো আইন। একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত জিয়া-মোশতাকের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান, এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের অবৈধ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যদি সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নাই থাকবেন, তাহলে কেন তিনি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে পঞ্চম সংশোধনীর অংশ করে হত্যাকারীদের বিচার পাকাপোক্তভাবে বন্ধ করে দিলেন? কেন তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুক, রশিদ, ডালিমসহ বাকিদের দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করলেন? এ প্রশ্নগুলো ও তার সদর্থক উত্তর একদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকাকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে, অন্যদিকে এ সকল প্রামাণিক ইতিহাস এটিও জানান দেয় যে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও পরবর্তীতে জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের সব চেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী বা সুবিধাভোগী হচ্ছেন জিয়াউর রহমান, তার দল বিএনপি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাত শিবির, ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দল ফ্রীডম পার্টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষক খুনী মোশতাককে শ্রদ্ধা জানানোর অপরাধে শাস্তি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনী মোশতাকের পেত্মাত্মাদের জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে পারে না। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) মফিজুল হক সরকার বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামাতের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিলের আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিন উল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সিদ্ধান্ত দেয় যে, দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিলের জন্য সংবিধান সংশোধনের কোনো প্রয়োজন নেই। দায়মুক্তি অধ্যাদেশের মতোই প্রায় ১৬টি আইন পঞ্চম সংশোধনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েই সংসদে বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি’ও একই রকমভাবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েই সংসদে বাতিল করা সম্ভব। কমিটির এই প্রতিবেদন আইন কমিশনের মতামতের জন্য পাঠানো হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এফ কে এম মুনীমের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশনও তা সমর্থন করেন। এরপর তৎকালীন আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য ‘দি ইনডেমনিটি রিপিল অ্যাক্ট-১৯৯৬’ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন। পরে ওই বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ সংসদে আইনটি পাস হয়, আর এর মধ্য দিয়ে দূর হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের সকল বাঁধা। বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।”

    বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল বলেন,
    “বাংলাদেশের সকল মানুষের মনে রাখতে হবে যে, সংবিধানের বিধান লংঘন করে তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হয়ে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেন। খন্দকার মোশতাকের রাষ্ট্রপতি হওয়া যেহেতু অবৈধ ছিল, ফলে তার জারি করা অধ্যাদেশও ছিল অবৈধ। এজন্য একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ ছিল প্রথম থেকেই অবৈধ। উপরন্তু, পঞ্চম সংশোধনীর পরেও এটি সংবিধানের কোন অংশ হয়নি। পাকিস্তানের গুপ্তচর খুনী জিয়ার অবৈধ দল বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদেরকে রুখে দিবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

    সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং এটিকে পাকাপোক্ত রূপ দিয়েছিলেন অবৈধ সামরিক শাসক খুনী জিয়াউর রহমান। ইনডেমনিটির উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার বন্ধ করে দেয়া। সমগ্র বাংলাদেশ এই কালো আইনের ওপর পাঁচ লক্ষ লিফট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলো খুনী জিয়াউর রহমান।পৃথিবীর ইতিহাসের নজিরবিহীন কালো আইন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারির প্রধান কুশীলব খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে এদেশের মানুষ আজীবন ধিক্কার জানাবে। সরকারের নিকট দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করে খুনী জিয়ার প্রকৃত চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। খুনী জিয়া-মোশতাকের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মানবে না, তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। বিএনপিসহ যেসকল রাজনৈতিক দল বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানে না তাদের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।”