১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম :
রাজাকার শ্লোগানধারীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ গ্রেফতারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল: মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায় কার্যকর করার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল উন্মুক্ত হলো ঢাকা-সুইজারল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইটের দ্বার ৫ কারণে কোপা যাবে আর্জেন্টিনায় দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরব আমিরাতের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূস আসামি, উনি এভাবে কথা বলতে পারেন না’ গাজায় মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবনার জবাবে যা জানাল ফিলিস্তিনিরা দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে আনন্দ মিছিল
  • প্রচ্ছদ
  • আর্ন্তজাতিক
  • অযোধ্যায় নতুন মসজিদের নির্মাণ কাজ মে মাসে শুরু হবে: আইআইসিএফ
  • অযোধ্যায় নতুন মসজিদের নির্মাণ কাজ মে মাসে শুরু হবে: আইআইসিএফ

    মুক্তি কন্ঠ

    মুক্তিকন্ঠ ডেস্ক :

    ভারতের অযোধ্যায় সোমবার মহাসমারোহে উদ্বোধন হলো রাম মন্দিরের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই মন্দিরের উদ্বোধন করেন। প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে নতুন করে যে মসজিদ নির্মাণের কথা হয়েছিল সেটা কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে?

    হিন্দু বিশ্বাস মতে অযোধ্যা তাদের দেবতা রামের জন্মভূমি। আজকে যেখানে রাম মন্দির দাঁড়িয়ে আছে সেখানে ১৬ শতকে মুঘল শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল একটি মসজিদ। যেটি বাবরি মসজিদ নামে জনপ্রিয় ছিল।

    বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দু ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘ দিনের। হিন্দুদের দাবি, রাম যেখানে জন্মেছিলেন ঠিক সেই জায়গায় এই হিন্দু দেবতার একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপরে মুসলিম ‘আক্রমণকারীরা’ বাবরি মসজিটটি নির্মাণ করেছিল। ১৯৯২ সালে কট্টরপন্থি হিন্দু জনতা মসজিদটি গুড়িয়ে দেয়। যার জেরে সৃষ্ট দাঙ্গায় প্রায় ২০০০ মানুষ নিহত হয়, নিহতদের বেশিরভাগই মুসলমান ছিলেন।

    বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়ার পর বিতর্কিত ওই জায়গাটিতে পুনরায় মসজিদ নির্মাণ হবে নাকি মন্দির নির্মাণ হবে তা নিয়ে মামলাও হয়।

    ২০১৯ সালে অযোধ্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা বেআইনি ছিল। তবে আদালতে যেসব প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে মসজিদের জায়গায় একটি অ-ইসলামিক স্থাপনা ছিল। তাই মসজিদের বিতর্কিত জায়গাটিকে একটি ট্রাস্টকে দেওয়া যেতে পারে এবং সেখানে একটি রাম মন্দির তৈরি করা যেতে পারে।

    আর উত্তর প্রদেশের সুন্নি ওয়াকপ বোর্ডকে বলা হয়, অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণের জন্য তাদের পাঁচ একর জমি দেওয়া হবে। যেখানে তারা নতুন করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে পারবেন।

    মসজিদ নির্মাণ কাজের দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনকে (আইআইসিএফ)। তাদের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান হাজি আরফাত শেখ গত সপ্তাহে বলেছিলেন, পবিত্র রমজান মাস শেষে আগামী মে মাসে নতুন জায়গায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। মসজিদটি নির্মাণ করতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে।

    এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ১৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যায়।

    মসজিদ নির্মাণের জন্য যে জায়গাটি দেওয়া হয়েছে সেটি অযোধ্যা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ধান্নিপুর গ্রামে। নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে মুসলমানদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    এ বিষয়ে আইআইসিএফ প্রধান জাফর আহমেদ ফারুকি বলেন, “আমরা কারো কাছে সাহায্য চাইনি.. তহবিল সংগ্রহের জন্য পাবলিক মুভমেন্টও করা হয়নি।

    এদিকে, হিন্দুদের বিভিন্ন দল, যাদের সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) রয়েছে, প্রায় তিন দশক আগে থকে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য জনগণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ শুরু করে এবং ৩০০০ কোটি রুপির (৩৬ কোটি মার্কিন ডলার) বেশি সংগ্রহ করে।

    মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হতে বিলম্ব হওয়ার আরো কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেন আইআইসিএফ এর সম্পাদক আতহার হুসাইন। তিনি বলেন, মসজিদের মিনারের মতো কাঠামোতে আরও ঐতিহ্যগত উপাদান যুক্ত করার জন্য সেগুলো পুনরায় আঁকতে হয়েছে।

    এছাড়া, মসজিদ প্রাঙ্গণে ৫০০ শয্যার একটি হাসাপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও তারা করেছেন।

    আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বসাধারণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রণের উদ্যোগও শুরু করা হয়ে বলে জানান হাজি আরফাত শেখ। যিনি বিজেপির একজন নেতা।

    নতুন মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ‘মসজিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ’। বাবরি মসজিদটি মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে নির্মিত ছিল।

    আরফাত শেখ বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা ছিল মানুষের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণার অনুভূতির অবসান ঘটানো এবং তা একে অপরের প্রতি ভালবাসায় রূপান্তর করা… আপনি সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিয়েছেন নাকি নেননি সেটা এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

    “এ সব লড়াই-সংঘাত থেমে যাবে যদি আমরা আমাদের সন্তানদের ও মানুষকে ভালো কিছু করতে শেখাই।”

    তথ্য সূত্র : বিডিনিউজ২৪